HRTD Medical Institute-এর পক্ষ থেকে একটি বিস্তারিত শিক্ষামূলক আলোচনা
ভূমিকা
বর্তমান বিশ্বে সংক্রামক রোগ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। বিশেষ করে উদীয়মান (Emerging) ভাইরাসজনিত রোগগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ধরনের একটি ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রোগের নাম হলো নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ (Nipah Virus Infection)। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস বারবার প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে এবং মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।

HRTD Medical Institute, ঢাকা-এর একটি স্বনামধন্য মেডিকেল ও ডায়াগনস্টিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সঠিক চিকিৎসা জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই নিবন্ধটি উপস্থাপন করছে। এখানে নিপাহ ভাইরাসের উৎপত্তি, সংক্রমণ পদ্ধতি, লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, প্রতিরোধ এবং জনস্বাস্থ্যে এর প্রভাব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
নিপাহ ভাইরাস কী?
নিপাহ ভাইরাস (Nipah Virus বা NiV) হলো একটি জুনোটিক ভাইরাস, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাসটি Paramyxoviridae পরিবারের অন্তর্গত এবং Henipavirus গণভুক্ত।
নিপাহ ভাইরাস প্রধানত মানুষের মধ্যে:
- তীব্র জ্বর
- শ্বাসকষ্ট
- মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)
- অচেতনতা
- এমনকি মৃত্যু ঘটাতে পারে
এই রোগের মৃত্যুহার ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত, যা একে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ভাইরাসে পরিণত করেছে।
নিপাহ ভাইরাসের ইতিহাস
নিপাহ ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৯৮–১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়ায়। সে সময় শূকর খামারের সঙ্গে জড়িত মানুষের মধ্যে অজানা একটি এনসেফালাইটিস রোগ দেখা যায়। পরে গবেষণায় জানা যায়, এটি একটি নতুন ভাইরাস, যার নাম দেওয়া হয় নিপাহ ভাইরাস—মালয়েশিয়ার Sungai Nipah নামক এলাকার নামানুসারে।
পরবর্তীতে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়:
- বাংলাদেশে
- ভারতে (পশ্চিমবঙ্গ ও কেরালা)
বিশেষ করে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের প্রবণতা দেখিয়েছে, যা একে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার
বিশ্বব্যাপী অবস্থা
নিপাহ ভাইরাস মূলত দেখা যায়:
- বাংলাদেশ
- ভারত
- মালয়েশিয়া (অতীতে)
- সিঙ্গাপুর (মালয়েশিয়ার প্রাদুর্ভাবের সাথে সম্পর্কিত)
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস
বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই বিচ্ছিন্নভাবে নিপাহ ভাইরাসের ঘটনা রিপোর্ট হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
- খেজুরের কাঁচা রস পান
- বাদুড়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সহাবস্থান
- গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব
HRTD Medical Institute বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
নিপাহ ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক (Reservoir)
নিপাহ ভাইরাসের প্রধান প্রাকৃতিক বাহক হলো:
- ফলভুক বাদুড় (Pteropus species)
এই বাদুড়গুলো নিজেরা অসুস্থ না হলেও:
- লালা
- প্রস্রাব
- মল
এর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।
নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের পথ
১. প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ
- বাদুড়ে খাওয়া ফল খাওয়া
- বাদুড় দ্বারা দূষিত খেজুরের কাঁচা রস পান
- সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শে আসা
২. মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ
- রোগীর খুব কাছাকাছি থাকা
- কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে
- শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শ
৩. হাসপাতালভিত্তিক সংক্রমণ
- PPE ব্যবহার না করা
- সঠিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকা
এই কারণে HRTD Medical Institute স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ইনফেকশন কন্ট্রোল ও বায়োসেফটি ট্রেনিং-কে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
নিপাহ ভাইরাসে রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া (Pathogenesis)
নিপাহ ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর:
- প্রথমে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়
- রক্তনালীর ভেতরের কোষ আক্রমণ করে
- রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা অতিক্রম করে
- মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি করে
ফলে দেখা দেয়:
- তীব্র এনসেফালাইটিস
- শ্বাসযন্ত্র বিকল হওয়া
- একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়া
নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণসমূহ
ইনকিউবেশন পিরিয়ড
- সাধারণত ৪–১৪ দিন
- কখনও কখনও ৪৫ দিন পর্যন্ত
প্রাথমিক লক্ষণ
- জ্বর
- মাথাব্যথা
- শরীর ব্যথা
- বমি
শ্বাসতন্ত্রের লক্ষণ
- কাশি
- শ্বাসকষ্ট
- ফুসফুসে সংক্রমণ
স্নায়বিক লক্ষণ
- মাথা ঘোরা
- খিঁচুনি
- অচেতনতা
- কোমা
নিপাহ ভাইরাসের রোগ নির্ণয়
নিপাহ ভাইরাস নির্ণয়ের জন্য উন্নত ল্যাব সুবিধা প্রয়োজন।
পরীক্ষাসমূহ
- RT-PCR (সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য)
- ELISA (IgM, IgG)
- ভাইরাস আইসোলেশন (উচ্চ বায়োসেফটি ল্যাব)
নমুনা
- রক্ত
- CSF
- গলার সোয়াব
- প্রস্রাব
HRTD Medical Institute-এ প্যাথলজি ও ল্যাব শিক্ষার্থীদের আধুনিক ডায়াগনস্টিক ধারণা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা ব্যবস্থা
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য:
❌ কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা অনুমোদিত ওষুধ নেই
সমর্থনমূলক চিকিৎসা
- ICU সাপোর্ট
- অক্সিজেন বা ভেন্টিলেশন
- খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধ
ব্যক্তিগত পর্যায়ে
- কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়া
- ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
- অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো
স্বাস্থ্যসেবায়
- PPE ব্যবহার
- রোগী আলাদা রাখা
- হাত ধোয়ার অভ্যাস
নিপাহ ভাইরাস ও জনস্বাস্থ্য
নিপাহ ভাইরাস WHO-এর মতে একটি Priority Disease, কারণ:
- উচ্চ মৃত্যুহার
- মানুষে মানুষে সংক্রমণ
- মহামারির সম্ভাবনা
HRTD Medical Institute-এর ভূমিকা
HRTD Medical Institute:
- দক্ষ ল্যাব টেকনোলজিস্ট তৈরি করে
- সংক্রামক রোগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়
- প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক শিক্ষায় অগ্রণী
ঠিকানা:
Section-6, Block-Kha, Road-1, Plot-11,
Metro Rail Pillar-249, Folpotti Mosque Lane,
Mirpur-10, Dhaka-1216
যোগাযোগ:
📞 01797522136 | 01987073965 | 01784572173

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার: ঝুঁকিসমূহ ও সংক্রমণের মাধ্যম
নিপাহ ভাইরাস একটি প্রাণীবাহিত রোগ যা বাদুড় থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। ১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর রোগটি শনাক্ত করা হয় । প্রায় সব রোগীর ইতিহাস থেকে দেখা যায় তারা অসুস্থ শূকরের সংস্পর্শে গিয়েছিল। নিপাহ ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত শূকরগুলোর মস্তিস্কে প্রদাহসহ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল।
শূকরগুলোর আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কারণ ছিলো বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ও তাদের বিষ্ঠা। মানুষ এই শূকরগুলোর দেখাশোনা করতে গিয়ে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এসব রোগীদের প্রধানতম উপসর্গ ছিল মস্তিষ্কের প্রদাহ যেখানে মৃত্যুহার খুব বেশি (৩৯%)। তখন থেকেই ফল খেকো বাদুড়গুলোকে এই রোগের রিজার্ভেয়ার বা রোগ ছড়ানোর উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে ৩টি প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়। সেগুলো হলো শিলিগুড়িতে (২০০১), নদীয়ায় (২০০৭) এবং কেরালায় (২০১৮)। এগুলোতে মোট ৬৬ জন রোগীর মাঝে ৪৫ (৭৫%) জন মারা গিয়েছিল। এই তিনটি প্রাদুর্ভাবের প্রথম উৎস নিশ্চিত না হলেও মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর ব্যাপারটি নিশ্চিত করা যায়। ফিলিপাইন্সে ২০১৪ সালের প্রাদুর্ভাবে ১৭ জন রোগীর মধ্যে ৯ জন মারা গিয়েছিল।
বাংলাদেশে ২০০১ সালে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু শনাক্ত করা হয় ২০০৪ সালে। তখন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যাচ্ছে। মোট ৩০৩ জন নিপাহ আক্রান্ত রোগীর মাঝে ২১১ (৭০%) জনের মৃত্যু ঘটেছে। মালয়েশিয়ার সাথে আমাদের পার্থক্য এখানেই যে আমাদের দেশে এই রোগ ছড়ায় খেজুরের রস পানের মাধ্যমে। শীতের সময় এই রস খুবই জনপ্রিয়। এ থেকেই ধারণা করা হয় বাদুড় এই রোগ সংক্রমণের উৎস।
আহরণের জন্য গাছের কান্ডের একদম ওপরের দিকে খানিকটা অংশ চেঁছে সেখানে সারারাত হাঁড়ি ঝুলিয়ে রাখা হয়। ইনফ্রারেড ক্যামেরা (যা অন্ধকারেও ছবি তুলতে পারে) দিয়ে তোলা ছবি থেকে দেখা যায় বাদুড় হাঁড়ি থেকে রস চাটছে, বা গাছের চাঁছা অংশে মুখ দিচ্ছে অথবা হাঁড়ির মধ্যে প্রস্রাব করছে। হাঁড়ির বাইরেটুকু মুছে নিয়ে তার থেকে নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে বিশেষ পরীক্ষা পিসিআর-এর মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাসের আরএনএ (জিনেটিক কোড-এর প্রমাণ) নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা গেছে। নেশা জাতীয় পানীয় ‘তাড়ি’-ও নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মানুষ থেকে মানুষে নিপাহ সংক্রমণের আরেকটি মাধ্যম হলো দেহরসের সংস্পর্শে আসা।
বাংলাদেশে হওয়া বেশিরভাগ প্রাদুর্ভাবগুলোই দেখা গেছে শীতের সময় হয়েছে। তাই যেসব রোগীর মস্তিষ্কে প্রদাহের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেবে আর কাঁচা খেজুরের রস পানের ইতিহাস থাকবে তাদের অবশ্যই নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের সন্দেহের তালিকায় রাখতে হবে।
বেশিরভাগ নিপাহ রোগীরই (৭০-১০০%) জ্বরের ইতিহাস থাকে। অন্যান্য উপসর্গের মাঝে ঘুমঘুম ভাব, মাথাব্যাথা, এলোমেলো লাগা, ঝিমুনি, বমি, প্রায় অচেতনতার পাশাপাশি মস্তিষ্কে প্রদাহ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা থাকে। প্রাথমিক সংক্রমণ ও একজন থেকে অন্যজনে ছড়ানোর মাঝে এই রোগের সুপ্তাবস্থার হেরফের হতে পারে, যার সময়সীমা ২ থেকে ৩৬ দিন।
ক্রমশ বিস্তৃতি লাভকারী নতুন জীবানুগুলোর মাঝে নিপাহ একটি, যার সংক্রমণের পথগুলো এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। উচ্চ মৃত্যুহার এবং সংক্রমণের মাধ্যমগুলো সম্পর্কে দুর্বোধ্যতার কারণে, এই ভাইরাসের ওপর গবেষণা এবং জরিপ পরিচালনার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া জরুরি।
উপসংহার
নিপাহ ভাইরাস একটি ভয়ংকর কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সঠিক জ্ঞান, সচেতনতা এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী থাকলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। HRTD Medical Institute ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রস্তুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Pathology Training Institute in Bangladesh Best Pathology Training Institute in Bangladesh